40733

বিয়ে তো নয়, পিকনিক : ফারিয়া

বোকাবাক্স প্রতিবেদক
আমার বিয়েটা আসলে বিয়ে ছিল না, অতিথিদের জন্য এটা ছিল পিকনিক। সবাই এসেছেন, ঘোরাঘুরি করেছেন, ছবি তুলেছেন ইচ্ছামতো, আড্ডা দিয়েছেন। আমিও সবার সঙ্গে ঘুরে ঘুরে কথা বলেছি। অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল, এমন পিকনিক টাইপ হবে আমার বিয়ে। সাধারণত বিয়েতে গেলে আমরা খেয়েদেয়ে বর-কনের সঙ্গে ছবি তুলে চলে আসি। আমরা চেষ্টা করেছি ভিন্নধর্মী কিছু একটা করার। লাইভ মিউজিকসহ অনেক আয়োজনই ছিল, যেন অতিথিরা বোর না হন।

লোকেশন
আমার মনে হয় বিয়ের লোকেশনটাই ছিল অন্য রকম। মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ভেতরে নয়নাভিরাম ‘জল-জোছনা’য় উন্মুক্ত আকাশের নিচে হয় আমাদের বিয়ে। এ রকম খোলামেলা লোকেশনে আমাদের দেশে খুব একটা বিয়ে হয় না। এমন জায়গায় বিয়ের প্ল্যান করা যায়, সেটাও কিন্তু নতুন। আমার বড় দুলাভাই স্পেশাল পারমিশন নিয়ে অনেক কষ্টে জায়গাটা ম্যানেজ করেছেন। কারণ ওটা সামরিক বাহিনীর রেস্ট্রিকটেড এরিয়া। ওখানে ঢুকতে হলে সাতটা চেকপোস্ট পার হতে হয়। প্রতিটা চেকপোস্টেই অতিথিদের জন্য কুপন দেওয়া ছিল।

নৌকায় ভেসে ঘোড়ায় চড়ে
বিয়ের আসরে গেছি নৌকায়। মজার ব্যাপার হলো, নৌকা যখন মাঝপথে তখন কচুরিপানা ইঞ্জিনে ঢুকে নষ্ট হয়ে যায় নৌকা। আধঘণ্টারও বেশি সময় লেকের মাঝখানে ছিলাম। পরে একটা স্পিডবোট দিয়ে টেনে আমাকে পারে আনা হয়। এদিকে আমার বর ঘোড়ার গাড়িতে বসে আছে, সেও রওনা দিতে পারছে না। সেনাবাহিনীর গার্ডরা আমার দুলাভাইয়ের পারমিশন ছাড়া ওকে ছাড়ছিল না। আর দুলাভাইও পারমিশন দিচ্ছিল না, কারণ আমি তখনো লেকের মাঝখানে আটকে। আমার পৌঁছানোর পরই ছাড়া হলো অপুকে।

সবচেয়ে আনন্দের মেহেদি অনুষ্ঠান
আমার মেহেদির অনুষ্ঠান হয়েছে ৪০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে সঙ্গে নিয়ে। লোকজন নিয়ে আমিই ওদের স্কুলে গেছি। আমরা ওদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেয়েছি। ওদের সঙ্গে আনন্দফুর্তি করেছি। বিয়ের পুরো আয়োজনে আমাকে সবচেয়ে তৃপ্তি দিয়েছে এই আয়োজনটাই। বাচ্চারা অনেক এনজয় করেছে। ওখানকার প্রত্যেকটা মেয়ে হাতে মেহেদি দিয়েছে। আমি ওদের সঙ্গে ইচ্ছামতো নেচে-গেয়ে ফুর্তি করে সময়টা কাটিয়েছি। এটাও আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল।

দুলাভাইদের নাচ
বড় দুলা ভাই ব্রিগেডিয়ার। সব সময় চুপচাপ থাকেন। আমার দুলাভাইরা হলুদে ফাটিয়ে নেচেছেন। এটা আমাদের পরিবারের জন্য খুবই স্পেশাল একটা ব্যাপার। আমাকে যখন পালকি দিয়ে আনা হয়, তখন আমার সিনেমার গান বাজছিল—‘দেবী’তে মমতাজের গাওয়া ‘দোয়েল পাখির কন্যা’। আমার বিয়ে ও হলুদে গানটা ননস্টপ বেজেছে। এসেছিল ঢুলিরাও। এই গানের সঙ্গে আমার ফুল ফ্যামিলি নাচতে নাচতে মঞ্চে উঠেছে। আমাদের ফ্যামিলির আর কোনো বিয়েতে এমনটা হয়নি। আমি সবার ছোট তো। সবাই চেয়েছে তাদের মনমতো বিয়েটা আয়োজন করতে।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *