42625

পুলিশ কর্মকর্তার ‘দৃষ্টান্তমূলক’ শাস্তি চাইলেন স্ত্রী

সিরাজগঞ্জের ট্রাফিক সার্জেন্ট আতিকুর রহমান আতিকের বিরুদ্ধে যৌতুক, নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্ত্রী রানী পারভীন। আজ শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে রানী পারভীন বলেন, ‘২০১৬ সালের ২৬ আগস্ট বগুড়ার শেরপুর উপজেলার আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে আতিকুর রহমান আতিকের সঙ্গে আট লাখ টাকা কাবিনে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তাকে কাবিনের সম পরিমাণ টাকা যৌতুক হিসেবে নগদ দেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকে ট্রাফিক সার্জন পদে চাকরি নেওয়ার কথা বলে আমার পরিবারের কাছ থেকে আরও টাকা যৌতুক দাবি করে সে। এ নিয়ে আমার ওপর প্রায় সময় নির্যাতন চালাত। এ সময় বাড়ি থেকে আরও ৮০ হাজার টাকা ও একটি সোনার চেইন দেওয়া হয়। কিন্তু তাতে সে সন্তুষ্ট না হয়ে আবার টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। নিযার্তন সহ্য করতে না পেরে আমি বাবার বাড়ি চলে আসি। ’

সংবাদ সম্মেলনে রানী পারভীন বলেন, ‘বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করায় তৎকালীন স্থানীয় সাংসদ গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলনকে দিয়ে স্থানীয় পুলিশ সুপারকে ফোন করাই। কিন্তু তাতে কোনো সমাধান না হওয়াতে নিজেই একটি আবেদন করি নাটোর পুলিশ সুপার বরাবর। কিন্তু তাতেও কোনো সুফল পাইনি। এরপর ওই বছরের পয়লা ডিসেম্বর আমি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা করি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে সে আমাকে নিয়ে সংসার করবে বলে আদালতে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং জামিন আবেদন করে।’

সংবাদ সম্মেলনে ওই নারী বলেন, ‘আদালত ২০১৭ সালের ১৬ মার্চ আদালত তাকে জামিন দেয়। পরে জামিনে বেরিয়ে আমাকে সে বিয়েই করেনি-এমন অভিযোগ করে ওই বছরের ৪ এপ্রিল আমার বিরুদ্ধে উল্টো প্রতারণা মামলা করে। কিন্তু বিজ্ঞ বিচারক বিয়ের কাবিননামা দেখে মামলাটি মিথ্যা এবং বানোয়াট বুঝতে পেরে ২ জুলাই তাকে আবারও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে বিচারক নিজে উপস্থিত থেকে পুনরায় আমার সঙ্গে বিয়ে দেন এবং আমাকে নিয়ে ঘর সংসার করবে বলে প্রতিজ্ঞবদ্ধ হয় সে। এভাবে কিছুদিন ভালো চলার পর আবার সেই যৌতুকের জন্য নির্যাতন শুরু করে এবং আমার শ্বশুরের সঙ্গে আমাকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।’

ট্রাফিক সার্জেন্টের স্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তীতে কোনো উপায় না দেখে আমি আবার তার বিরুদ্ধে মামলা করি। মামলার পর আদালত থেকে পুনরায় বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে পথিমধ্যে স্থানীয় পাঙ্গাসী বাজার এলাকায় সিএনজি থেকে আমাকে ফেলে দিয়ে চলে যায় সে। এ ঘটনার পর আমি রায়গঞ্জ এবং সিরাজগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার চেষ্টা করি। কিন্তু কোনো থানা আমার ডায়েরি গ্রহণ করেনি।’’

তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ৩ জুন আমি আদালতে আবারও একটি মামলা করি এবং বিচারককে আমার সকল কথা খুলে বলি। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে দ্রুত তদন্ত করার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন। কিন্তু মামলার পর থেকে আমাকে এবং আমার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে সার্জেন্ট আতিক। শুধু তাই নয়, চলমান মামলার তারিখে সে সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক অফিসে আসে এবং তার সহকর্মী পুলিশ বন্ধুদের দিয়ে নানাভাবে হুমকি দেয়।’

রানী পারভীন অভিযোগ করে বলেন, ‘পিবিআই তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দিতে গড়িমসি করছে। এ অবস্থায় আমি এবং আমার পরিবার আমাদের জানমাল নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছি। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। ’

এ বিষয়ে সার্জেন্ট আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ‌‘শুরু থেকে ওই (স্ত্রী) আমার পরিবার আর আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে আসছে। এ নিয়ে আদালতে তিনটি মামলা চলমান রয়েছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালত আমাকে যে শাস্তি দেবে আমি তা মেনে নেব। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না।’

মামলার তদন্ত নিয়ে সিরাজগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) অফিসের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘প্রতিবেদন যথারীতি দাখিল হবে। এখানে বাত্যয় ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *