42776

ভারতজুড়ে সহিংসতা, আতঙ্কের নাম বদলে ফেলতে চান নিয়াজ খান!

বিনোদন ডেস্ক।। নিজের নামের জন্য হাজার জ্বালা। হাজার সন্দেহ। হাজার ঘৃণা। তবুও আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে দমেননি অটিজ়ম আক্রান্ত রিজ়ওয়ান খান। উল্টে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখোমুখি হয়ে বলতে চেয়েছিলেন ‘মাই নেম ইজ় খান, অ্যান্ড আই অ্যাম নট আ টেররিস্ট।’ এটাই ছিল কর্ণ জোহর পরিচালিত ‘মাই নেম ইজ খান’ ছবির বিষয়।

কিন্তু বাস্তবের ভারতে নিজের নাম বদলে ফেলতে চাইছেন আর এক ‘খান’ নিয়াজ় খান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় ইনিংসে সাম্প্রদায়িক হানাহানি ও বিভিন্ন কারণে সংখ্যালঘুদের উপরে সহিংসতার ঘটনায় আতঙ্কিত মধ্যপ্রদেশের এই আমলা। আতঙ্ক এতটাই যে, নয়া নাম খুঁজছেন তিনি। ৬ জুলাই টুইটারে নিজের এই ভয়ের কথা প্রকাশ করেছেন নিয়াজ়। লিখেছেন, নিজের মুসলিম পরিচিতি গোপন করার জন্য গত ছ’মাস ধরে তিনি একটি নতুন নাম খুঁজছেন। উদ্দেশ্য ‘ঘৃণার তরবারি’ থেকে নিজেকে রক্ষা করা। এটা অবশ্যই করতে হবে।

নিয়াজ় আরো জানিয়েছেন, এই নয়া নাম ‘হিংস্র ভিড়ের’ হাত থেকে তাকে রক্ষা করবে। তার বক্তব্য, ‘‘আমার পরনে যদি টুপি, কুর্তা বা দাড়ি না থাকে, তা হলে নিজের ভুয়া নাম বলে সহজেই আমি ভিড়ের হাত থেকে পার পেয়ে যেতে পারি। যদি আমার ভাই ওই পোশাক পরে থাকেন এবং তার দাড়ি থাকে, তা হলে তিনি বিরাট বিপদের মধ্যে রয়েছেন।’’ নিয়াজ়ের মতে, অন্য মুসলিমদের নাম বদল করা দরকার। না হলে কোনো প্রতিষ্ঠানই তাদের রক্ষা করতে পারবে না।

বলিউডের মুসলিম অভিনেতাদেরও একই পরামর্শ দিয়েছেন এই আমলা। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘‘আমার সম্প্রদায়ের বলিউড অভিনেতাদেরও নিজেদের ছবিকে বাঁচাতে নতুন নাম খোঁজা উচিত। এখন বড় তারকাদের ছবিও ‘ফ্লপ’ করতে শুরু করেছে। এর মানেটা তাদের জানা উচিত।’’

তবে এই প্রথম নয়, জানুয়ারিতেও সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়াজ় অভিযোগ করেছিলেন ‘খান’ পদবির জন্য কর্মক্ষেত্রে তিনি বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার। তিনি লিখেছিলেন, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণের জন্য নিজেকে সব সময় অস্পৃশ্য মনে হয়। নিয়াজ়ের কথায়, ‘‘১৭ বছরের সরকারি চাকরিতে ১০ জেলায় বদলি করা হয়েছে আমাকে। ১৯ বার বদলেছে দায়িত্ব। এই আচরণের কারণে নিজেকে সব সময় ইহুদির মতো অচ্ছুৎ মনে হতো। খান পদবি আমাকে ভূতের মতো তাড়া করেছে।’’ পর্দায় ‘খান’ পদবি তাড়া করে বেড়িয়েছিল শাহরুখ খান অভিনীত রিজ়ওয়ানকে। আর মোদি জমানায় আতঙ্কের হাতে বন্দি আর এক ‘খান’। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *