42757

শিল্পী মিলার নির্দেশে সানজারীর শরীরে এসিড নিক্ষেপ করে জিম

বিনোদন ডেস্ক।। সংগীত শিল্পী মিলার সাবেক স্বামী পাইলট পারভেজ সানজারীর শরীরে অ্যাসিড নিক্ষেপের কথা স্বীকার করেছে মিলার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী কিম জন পিটার হালদার। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে ঘটনার দিনের পুরা বর্ণনাও দিয়েছে কিম জন।এর আগেও দুই দিন অ্যাসিড মারার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় কিম। মিলার নির্দেশেই অ্যাসিড নিক্ষেপ করে বলেও স্বীকার করে কিম। কিমকে রোববার জেলে পাঠিয়েছে ডিবি পুলিশ।

গত ৩ জুলাই ক্যান্টনমেন্টের ভেতর থেকে মিলার বন্ধু টুকুন খানের বাসা থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে কিমকে। ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, গত ২ জুন সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার সময় বাসার সামনের সড়কে অ্যাসিড হামলার শিকার হন মিলার সাবেক স্বামী সানজারী। এ ঘটনায় ডিবির হাতে গ্রেপ্তার মিলার দেহরক্ষী সম্পূর্ণ ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে।

ডিবিকে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে কিম বলেছে ‘মিলা আপুর মিউজিক রোবোট ব্যান্ডের দলে দীর্ঘ ৫ বছর যাবৎ মালামাল বহন করতাম। এর পর ৩ বছর ধরে মিলা আপুর ব্যক্তিগত দেহরক্ষী হিসেবে সঙ্গে আছি। গত ২৫ মে বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে মিলা আপু কান্না করে বলে, সানজারী আমার জীবনটা নষ্ট করেছে। সানজারীকে তুইতো কিছু করতে পারবি না। যা করার আমি নিজেই করব। তখন আমি মিলা আপুকে বলি আপনাকে কিছু করতে হবে না, যা করার আমিই করব। এ সময় মিলা আপুর সাথে পরামর্শ করি সানজারীর গোপনাঙ্গে অ্যাসিড দেব। আপু বলে পারলে কিছু করে দেখা তারপর আসিস। তখন আমি চিন্তা করি মিলা আপুর জীবন নষ্ট করেছে সানজারীর জীবনও নষ্ট করব।’

‘ওই দিনই (২৫ মে) সন্ধ্যাবেলায় মিরপুর ডিওএইচএস সরকার মার্কেটে হার্ডওয়্যারের দোকান থেকে অ্যাসিড কিনে এনে একটি কাচের কৌটাতে ঢেলে ব্যাগের মধ্যে রাখি। ২৬ ও ২৭ মে দুই দিন উত্তরায় সানজারীর বাড়ির সামনে ইফতারের পর থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত অবস্থান করি। কিন্তু সানজারীকে দেখি নাই। পরে ২ জুন বিকেলে সানজারীর বাসার সামনে যাই। আড়াল থেকে দেখতে থাকি ইফতারের পর আনুমানিক সাড়ে ৭টা থেকে ৭টা ৪৫মিনিটের দিকে সানজারী মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে ৫০ গজ সামনের দিকে যাওয়ার পর আমি ডাক দেই ভাইয়া দাঁড়ান। এরপর মোটরসাইকেলের সামনে দুই হাত লম্বা করে দাঁড়িয়ে গতি রোধ করি। সানজারীকে বলি ভাইয়া আমি বিপদে আছি, আমার দুইটা কথা শোনেন। সানজারী বলে ‘তোর সাথে আমার কোন কথা নাই, তুই আমার সামনে থেকে চলে যা।’ এ সময় সানজারী মোটরসাইকেল ঘুড়িয়ে বাসার দিকে যেতে থাকলে আমি পুনরায় মোটরসাইকেলের সামনে দাঁড়িয়ে দ্রুত অ্যাসিডের কৌটা বের করে তার গায়ে ঢেলে দিয়ে কৌটা ফেলে দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাই।’

কিম আরও বলেন, ‘এ ঘটনার পর এয়ারপোর্ট রেলস্টেশনে যাওয়ার পর মিলা আপুকে ফোন করে বলি আপু সানজারীর গায়ে অ্যাসিড দিয়েছি। আপু বলে ‘ঠিক আছে, ভালো কাজ করেছিস, এখন পালাইয়া যা।’

‘পরে আমি রাত সাড়ে ৯টার ট্রেনে চট্টগ্রাম চলে যাই। সেখানে আমার বন্ধুর বাসায় ১৫ দিন থাকার পর ঢাকায় চলে আসি। ঢাকায় এসে মিলা আপুর সাথে যোগাযোগ করলে আপু আমার পূর্ব পরিচিত ব্যান্ডের রহিমের সাথে যোগাযোগ করে। রহিম আমাকে ক্যান্টনমেন্টের ভেতর আপুর বন্ধু টুকুন খানের বাসায় রেখে দেয়। পরে মিলা আপু দুই দিন আমার কাছে এসে দেখা করে সান্ত্বনা দেয় এবং বলে তোর জামিনের ব্যবস্থা করতেছি। মিলা আপু আমাকে শিখিয়ে দিয়ে বলে, ‘তোর সঙ্গে আমি মোবাইল এ কথা বলি, এই অ্যাসিড মারার কথায় আমার নাম বলবি না। তুই বলবি আমি নিজের ইচ্ছাতেই এই কাজ করেছি।’

প্রসঙ্গত, গত ২ জুন সন্ধ্যার দিকে মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার সময় বাসার সামনের সড়কে অ্যাসিড হামলার শিকার হন সানজারী। এ ঘটনায় ৯ জুন পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ৬০২ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিল সে। ৪ জুন অ্যাসিড দমন আইনে গায়িকা মিলার বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন পারভেজ সানজারীর বাবা এস এম নাসির উদ্দিন। সেই মামলার এজাহারে মিলা এবং তার সহকারী পিটার কিমকে অভিযুক্ত করা হয়। এর আগে গত ২১ এপ্রিল আদালতে মিলার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন পারভেজ সানজারী। উৎস: দেশ রুপাস্তর

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *