42754

৪৭ দিন অজ্ঞান ছাত্রী ভুল ইনজেকশনে, ডাক্তার-নার্স কারাগারে

নিউজ ডেস্ক।। বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মরিয়ম সুলতানা মুন্নিকে ভুল ইনজেকশন পুশ করার ঘটনায় চিকিৎসক তপন কুমার মন্ডল ও নার্স কুহেলিকাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।  এ দু’জন রোববার আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত জামিন বাতিল করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৭ দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকলেও মরিয়ম সুলতানা মুন্নির জ্ঞান ফেরেনি।

অভিযুক্ত চিকিৎসক ও দুই নার্স মামলা দায়ের পর হাইকোর্ট থেকে ৮সপ্তাহের জামিন নেন। জামিনের সময় শেষ হওয়ায় অভিযুক্ত ৩ জনের মধ্যে দুজন রোববার নিম্ন আদালতে হাজির হন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে এদিন আদালতে হাজির হননি অভিযুক্ত নার্স শাহনাজ পারভীন।

জানা যায়, মরিয়ম সুলতানা মুন্নি পিত্তথলিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এ জন্য মুন্নি শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আব্দুল মতিনের তত্ত্বাবধানে একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. তপন মন্ডলের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। গত ২০ মে হাসপাতালে মুন্নির পোস্ট এনেস্থেটিক একটিভিটি সম্পন্ন করা হয়। ২১ মে সকালে তার অপারেশন করার কথা। সে অনুযায়ী হাসপাতালের ফিমেল ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহনাজ সকালে রোগীর ফাইল না দেখে গ্যাসট্রাইটিসের ইনজেকশন সারজেলের পরিবর্তে অ্যানেস্থেসিয়ার (অজ্ঞান কারার) ইনজেকশন সারভেক মুন্নির শরীরে পুশ করেন। ইনজেকশন দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুন্নি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এবং শারীরীক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক মুন্নিকে খুলনা আবু নাসের হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানে অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত জ্ঞান ফেরেনি মুন্নির।

এ ঘটনায় হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক মাসুদুর রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় মুন্নির চাচা জাকির হোসেন বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ থানায় চিকিৎসক তপন কুমার মন্ডল ও দুই নার্স শাহনাজ ও কুহেলিকাকে আসামি করে মামলা করেছেন। উৎস : জাগোনিউজ

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *