43446

‘এমন ভালোবাসার কাছে ধন্যবাদ শব্দটা ছোট পড়ে যায়’

আজ যারা অনেক বড় বড় তারকা,তাদের এত খ্যাতি সেটা ভক্ত ও দর্শকদের ভালোবাসায়। ভক্ত দর্শকরা ভালোবাসেন বলেই আজ তারা তারকা। অন্যান্য তারকাদের চেয়ে চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ যেন একটু আলাদাই। তিনি তার ভক্তদের সঙ্গে শত ব্যস্ততার মাঝেও কথা বলেন যেটা অন্যান্য অনেক তারকাই করেন না।

প্রিয় তারকাকে কাছ থেকে এক নজর দেখার জন্য কতটা না আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় থাকেন ভক্ত অনুরাগীরা। আর যদি সেই সুযোগ মেলে তাহলে আনন্দের সীমা থাকে না। মাত্র দুই বছর আগে ‘সিয়াম আহমেদ ফ্যানস ক্লাব’ নামে একটি গ্রুপ খুলে সিয়াম ভক্তরা। দেখতে দেখতে সেই গ্রুপের বয়স দুই পেরিয়ে তিনে পড়ল। আর দুই বছর পূর্তিতেই গত শুক্রবার রাজধানীর মিরপুরে আয়োজন করা হয়েছিলো গেট টুগেদার পার্টি যেখানে স্বয়ং উপস্হিত ছিলেন ‘পোড়ামন ২’ ও ‘দহন’ দিয়ে বাজিমাত করা ঢাকাই ছবির অন্যতম সফল চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ, তার সহধর্মিণী শাম্মা রোশাফি অবন্তী ও গ্রুপের প্রায় অধিকাংশ মেম্বার। পুরো এ আয়োজনটি করেছেন সিয়ামিয়ানসরা। প্রিয় তারকাকে সামনে পেয়ে প্রত্যেকের চোখে মুখে দেখা গেল আনন্দের ছাপ।

‘তুমি ছাড়া সবাই জিরো, তুমি নাম্বার ওয়ান হিরো’ উপস্থিত সবাই নিজেদের কন্ঠে তুলে নিলেন এই গান। হাতে ফুলের তোড়া আর কন্ঠে এই গান তুলেই সবাই আগমন জানান সিয়ামকে। সময়ের এই ক্রেজ নায়ককে চমকে দেয়ার জন্যই এমন আয়োজন করেছেন সিয়ামের ডাই হার্ট ফ্যানসরা।

এই আয়োজনে অংশ নিতে বহুদূর থেকে অনেকেই আসেন তাদের প্রিয় তারকাকে এক নজর কাছ থেকে দেখতে। সিয়ামকে কাছে পেয়ে তাদের আনন্দের যেন শেষ নেই। অনেকে তো রীতিমত কেঁদেও ফেলেছেন তাকে কাছে পেয়ে।

সিয়ামকে নিয়ে অনুভূতি জানিয়ে সৈয়দা মারজানা শাওলিন বলেন, টেলিভিশনে সিয়াম আহমেদের নাটক সবসময় দেখতে না পারলেও অবসর সময়ে ইউটিউবে দেখতাম। মামনিও আমার সাথে বসে পড়তো তার নাটক দেখতে। সিয়াম আহমেদকে দেখলেই মামনি বলতো, ‘সিয়ামকে দেখলেই আমার সায়েমের কথা মনে পড়ে যায়’। সায়েম আমার একমাত্র ভাইয়ার নাম, আমার থেকে সাত বছরের বড় ছিলেন। ছোটবেলায় ভাইয়ার নিউমোনিয়া হয়েছিল।মাঝেমধ্যেই অ্যাজমা অ্যাটাক হতো। ২০০৪ সালে ভাইয়া প্লিউরাল ইফিউশন হয়ে মারা যান। এটা এমন একটা অবস্থা যখন ফুসফুসের পর্দায় ফ্লুয়িড জমে বাতাস নিঃসরণ করার কোন পথ থাকে না।

‘পোড়ামন ২’ সিনেমাতে যখন সিয়াম আহমেদের চরিত্র ‘সুজন’ এর মৃত্যু দেখানো হয়েছিল তখন মামনি প্রায় আধ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে কান্না করেছিল। আমি আর বাবা খুব কষ্টে মামনিকে বুঝিয়েছিলাম।

আর সেদিন মামনি সিয়াম আহমেদকে সামনে থেকে দেখে না চাইতেও কান্না করে ফেলেছিল। বাসায় ফেরার পথেও মামনি বলছিলো, ‘আমি নিজেও জানিনা কিভাবে কান্না করে ফেলেছি। সিয়াম যখন আমাকে জড়িয়ে ধরলো মনে হলো ও আমার খুব কাছের কেউ!’

সেদিন আমি বুঝতে পারলাম যে মামনি সিয়াম আহমেদকে কতটা ভালোবাসে! মায়েদের ভালোবাসা এমনই হয়। কিন্তু আমি সিয়াম আহমেদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ মামনিকে এতটা ভালোবাসা আর সাপোর্ট দেয়ার জন্য। ‘ধন্যবাদ’ শব্দটা ছোট পড়ে যায় এমন ভালোবাসার কাছে।

এমন ভালোবাসায় রীতিমত মুগ্ধ ও বেশ উচ্ছ্বসিত চিত্রনায়ক সিয়াম। তিনি বলেন, ‘আমার যারা শুভাকাঙ্খী আছেন তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তাদের ভালোবাসাতেই আজ আমি সিয়াম। সবার প্রতিই আমার অনেক ভালোবাসা থাকলো।’

সিয়াম ভালোবাসা গ্রহণ করেছেন বেশ সাদরে। মিশেছেন তাদের সঙ্গে,কাটিয়েছেন অনেকটা সময়। এটাই যেন তারকা হিসেবেও পাওয়া অনেক বড় একটা স্মৃতি।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *