44067

গোপন প্রেমের গুঞ্জন সত্যি হয়েছিল যেসব তারকাদের

বিনোদন ডেস্কঃ ‘অপেন সিক্রেট’ ছিল তাদের সম্পর্কগুলো। সবাই জানে আবার কেউ জানে না। আশপাশে কানাঘুষা হয়, খবরের কাগজে তারা মাঝেমধ্যেই শিরোনাম হন। প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে নিজেরাও কখনও মুখ খোলেন না। সবসময়ই এড়িয়ে যান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবকিছু সামনে আসে। প্রকাশ হয় তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা। বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনের এমন কিছু পরিচিত মুখের সঙ্গে এই প্রতিবেদনে পাঠকের পরিচয় হবে যারা জনপ্রিয় তারকা হয়ে গোপনে হয়তো দীর্ঘ দিন প্রেম করেছেন, কেউবা বিয়েটাও গোপনেই সেরেছেন, কারও আবার বিয়ের পর ঘর আলো করে সন্তান এসেছে- অথচ কোনও কিছুই কেউ জানতো না।

নাঈম-শাবনাজ: নবব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় নায়িকাদের একজন শাবনাজ। ‘চাঁদনী’ ছবিতে ক্যারিয়ার শুরু করেন এই অভিনেত্রী। ছবিটিতে তার বিপরীতে ছিলেন নাঈম। অভিনয়ের সূত্র ধরে তাদের পরিচয়, প্রেম অতঃপর ১৯৯৬ সালে বিয়ে।
মৌসুমী-ওমর সানি: ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মধ্য দিয়ে রুপালি পর্দায় মৌসুমীর অভিষেক। শুরুতে অমর নায়ক সালমান শাহ’র সঙ্গে তার প্রেমের গুঞ্জন উঠে। পরে তা বাঁক নেয় চিত্রনায়ক ওমর সানির দিকে। সব গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯৬ সালের ২ আগস্ট মৌসুমী আর ওমর সানির মালাবদল হয়। এক পুত্র ফারদিন এহসান স্বাধীন ও কন্যা ফাইজাকে নিয়ে এখন এই তারকা দম্পতির সংসার।

শাকিব খান-অপু বিশ্বাস: ঢালিউডের এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত জুটি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা ছবির দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছেন এই জুটি। তবে কবে যে তারা অভিনয়ের ফাঁকে বাস্তবেও মন দেয়া নেয়া, বিয়ে ও সংসার শুরু করেন তা কেউই টের পায়নি। ২০০৮ সালে গোপনে বিয়ে হয় শাকিব-অপুর। ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার একটি হাসপাতালে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন অপু বিশ্বাস। বিয়ের দীর্ঘ ৮ বছর পর দাম্পত্য দ্বন্দ্বের এক পর্যায়ে সন্তানকে কোলে নিয়ে প্রকাশ্যে আসেন অপু। ফাঁস করে দেন তাদের প্রেম, বিয়ে ও সন্তানের কথা।

বিপাশা-তৌকীর: ছোটপর্দার এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রী তারা। গোটা নব্বইয়ের দশক দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। একদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে এক বন্ধুর আমন্ত্রণে তৌকির আহমেদ সেখানে গেলে বিপাশা হায়াতের আঁকা ছবি দেখে তিনি মুগ্ধ হন। এরপর বিপাশার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ, পরিচয়। এক পর্যায়ে ‘রূপনগর’ নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে বন্ধুত্ব থেকে ভালোলাগা ভালবাসা শুরু তাদের। গোপনে দীর্ঘদিন প্রেম করার পর ১৯৯৯ সালের ২৩ জুলাই তাদের বিয়ের মধ্য দিয়ে সব গুঞ্জনের অবসান ঘরে। এই দম্পতির ঘরে আছে দুটি সন্তান।

জাহিদ হাসান-সাদিয়া ইসলাম মৌ: আশির দশকের শেষ দিকে মডেলিং শুরু করা সাদিয়া ইসলাম মৌ রূপে-গুণে বরাবরই অতুলনীয়া ছিলেন। অন্যদিকে ১৯৮৬ সালে ‘বলবান’ ছবি দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখেন জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান। এরপর ধীরে ধীরে আসেন টেলিভিশন নাটকে। এখনও সমান তালে তিনি টিভি পর্দায় অভিনয় করে যাচ্ছেন।

মৌ এর সঙ্গে জাহিদ হাসানের পরিচয় হয় বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির মধ্য দিয়ে। সেখানেই প্রথম দুজন একসঙ্গে পারফর্ম করেন। পরে তাদের জুটি ব্যাপক প্রশংসিত হয়। দুজনের মাঝে বাড়ে ঘনিষ্টতা। একসময় প্রেম থেকে পরিণয়। তাদের ঘরে পুষ্পিতা ও পূর্ণ নামে এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে।

হিল্লোল-নওশীন: ছোটপর্দার এই দুই তারকার প্রেম নিয়েও কম গুঞ্জন হয়নি। তাদের মাখামাখির খবর বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে এসেছে। আদনান ফারুক হিল্লোল প্রথমে শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নিকে বিয়ে করেন। সেই সংসারে ভাঙন ধরার পর নওশীনের সঙ্গে প্রেম ও একসঙ্গে নাটকে কাজ করা শুরু হয়। এর পর তারা গোপনে বিয়ে করেন। শুরু থেকেই প্রেম ও বিয়ের কথা অস্বীকার করলেও শেষ পর্যন্ত দুজনেই সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন।

তাহসান-মিথিলা: তাহসান যখন ব্ল্যাক ব্যান্ডের গায়ক মিথিলা তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। সেই ২০০৪ সালের দিকের কথা। এক বন্ধুর অনুরোধে তাহসানের বাসায় অটোগ্রাফ আনতে গিয়েছিলেন মিথিলা। সেখানে দুজনের পরিচয়। এর পর মন দেয়ানেয়া। তবে শুরু থেকেই সম্পর্কের কথা তারা গোপন রাখেন ও অস্বীকার করেন। ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট তাহসান ও মিথিলা বিয়ে করেন। তাদের ঘরে আয়রা তাহরিম খান নামে এক কন্যা সন্তান আছে। ১১ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে ২০১৭ সালের মে মাসে আলোচিত এই তারকা দম্পতির ছাড়াছাড়ি হয়।

নিলয়-শখ: ২০১১ সালে টেলিকম কোম্পানির বিজ্ঞাপনচিত্রে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাদের পরিচয়। পরের বছরই সানিয়াত হোসেনের ‘অল্প অল্প প্রেমের গল্প’ ছবিতে একসঙ্গে অভিনয়। এর পর বাস্তবেও তাদের প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে সব গুঞ্জন সত্যি করে ২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারি বিয়ে করেন এই দুই তারকা। বিয়ের দেড় বছরের মাথায় ২০১৭ সালের জুলাইয়ে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়।

বাঁধন-মাশরুর: শুরুতেই প্রেমের গুঞ্জন ছিল গোপনে। কেউ মুখ খোলেননি। এক পর্যায়ে ২০১০ সালে নিজের থেকে বয়সে ২০ বছরের বড় মাশরুর সিদ্দিকী সনেটকে ভালোবেসে বিয়ে করেন মডেল অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। প্রায় ৪ বছর সংসার করার পর ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর তাদের ডিভোর্স হয়। এখন একমাত্র মেয়েকে নিয়ে একাই থাকেন বাঁধন।

২০১০ সালে নিজের থেকে ২০ বছরের বড় মাশরুর সিদ্দিকী সনেটকে ভালোবেসে বিয়ে করেন অভিনেত্রী ও মডেল আজমেরী হক বাঁধন। প্রায় চার বছর সংসার করার পর ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ হয় তাদের। বাঁধন-সনেট দম্পতির একটি মেয়ে রয়েছে। বিচ্ছেদের পর মেয়েকে নিয়ে একাই থাকেন বাঁধন।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *